মালয়েশীয় পাম অয়েলের সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি ৪%

টানা দুই সপ্তাহ বেড়েছে মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এ ঊর্ধ্বমুখিতায় প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

সাপ্তাহিক হিসাবে ভোজ্যতেলটির মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। মূলত বায়োডিজেলের কাঁচামাল হিসেবে পাম অয়েলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির বাজারে এ চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে গত শুক্রবার মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ২৩ রিঙ্গিত বা দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৬৪ রিঙ্গিতে (১ হাজার ১৫৯ ডলার ২৬ সেন্ট)। তবে গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম সামগ্রিকভাবে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে গত সোমবার একদিনেই পাম অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক উল্লম্ফন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। পাম অয়েল সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম অনুসরণ করে। গত শুক্রবার ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সয়াবিন তেলের চুক্তিমূল্য দশমিক ৫৩ এবং পাম অয়েলের দাম দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। তবে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বায়োডিজেল উৎপাদক সমিতি (অ্যাপ্রোবি) জানিয়েছে, ৫০ শতাংশ পাম অয়েল মিশ্রিত বায়োডিজেল বা বি-৫০-এর রোড টেস্ট আগামী জুন বা জুলাইয়ের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশটির পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (গাপকি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েল উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পাম অয়েল আমদানি ১১ শতাংশ বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অন্যান্য ভোজ্যতেলের তুলনায় পাম অয়েলের দাম কম হওয়ায় ভারতীয় রিফাইনাররা আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। এছাড়া মালয়েশিয়া এপ্রিলের জন্য অপরিশোধিত পাম অয়েলের রেফারেন্স মূল্য বাড়িয়েছে। এতে দেশটিতে পাম অয়েল রফতানি শুল্ক বেড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

আরও